EMI Calculator | ইএমআই ও লোন কিস্তি হিসাব

ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার আগে জেনে নিন প্রতি মাসে কত টাকা কিস্তি দিতে হবে এবং মোট কত টাকা সুদ যাবে। নিচের ক্যালকুলেটরে ঋণের পরিমাণ, সুদের হার ও মেয়াদ দিলেই সঙ্গে সঙ্গে হিসাব পাবেন।

আপনার ব্যাংকের বর্তমান হার নিজে যাচাই করে বসান।
বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংক ঋণে রিডিউসিং ব্যালেন্স পদ্ধতিতে সুদ ধরা হয়।
মাসিক কিস্তি (EMI)—
মূল ঋণ—
মোট সুদ—
মোট পরিশোধ—
কিস্তির সংখ্যা—
মূল ঋণ: —
সুদ: —

ক্যালকুলেটরটি কীভাবে ব্যবহার করবেন

প্রথমে ঋণের পরিমাণ লিখুন বা স্লাইডার টানুন। এরপর ব্যাংকের দেওয়া বার্ষিক সুদের হার এবং মেয়াদ বসান। মেয়াদ বছর বা মাস, যেকোনো এককে দিতে পারবেন। হিসাব আপনাআপনি বদলে যাবে, আলাদা কোনো বাটন চাপতে হবে না। মোবাইলে সংখ্যা লেখার সময় ইংরেজি সংখ্যা ব্যবহার করুন, ফলাফল বাংলায় দেখাবে।

EMI হিসাবের সূত্র

রিডিউসিং ব্যালেন্স পদ্ধতিতে প্রতি মাসের কিস্তি বের করা হয় এই সূত্রে:

EMI = P × r × (1 + r)n ÷ [(1 + r)n − 1]

এখানে P হলো মূল ঋণ, r হলো মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০), আর n হলো মোট কিস্তির সংখ্যা (মাস)।

ফ্ল্যাট রেটে সুদ পুরো ঋণের ওপর হিসাব হয়: মোট সুদ = P × বার্ষিক হার × বছর ÷ ১০০, তারপর (মূল + সুদ) কে মাস দিয়ে ভাগ করলেই কিস্তি পাওয়া যায়।

রিডিউসিং ও ফ্ল্যাট রেটের পার্থক্য

রিডিউসিং পদ্ধতিতে প্রতি মাসে শুধু বাকি থাকা ঋণের ওপর সুদ ধরা হয়, তাই ধীরে ধীরে সুদের অংশ কমে আর মূলের অংশ বাড়ে। ফ্ল্যাট রেটে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ঋণের ওপর সুদ ধরা হয়, ফলে একই শতাংশে ফ্ল্যাট রেটের মোট সুদ অনেক বেশি পড়ে। দুই ব্যাংকের ঋণ তুলনার সময় অবশ্যই দেখে নিন দুজন একই পদ্ধতিতে হার বলছে কি না।

একটি উদাহরণ

ধরুন: ১০,০০,০০০ টাকা ঋণ, বার্ষিক সুদ ১২%, মেয়াদ ৫ বছর (৬০ মাস)। মাসিক হার r = ১২ ÷ ১২ ÷ ১০০ = ০.০১।

ফলাফল (রিডিউসিং): মাসিক কিস্তি প্রায় ২২,২৪৪ টাকা। ৬০ মাসে মোট পরিশোধ প্রায় ১৩,৩৪,৬৬৭ টাকা, অর্থাৎ সুদ প্রায় ৩,৩৪,৬৬৭ টাকা।

একই ঋণ ফ্ল্যাট ১২% এ: সুদ হতো ৬,০০,০০০ টাকা এবং কিস্তি ২৬,৬৬৭ টাকা। অর্থাৎ পদ্ধতির পার্থক্যে প্রায় ২,৬৫,০০০ টাকা বেশি সুদ যেত।

০% সুদেও কেন খরচ বাড়তে পারে: আমার নিজের অভিজ্ঞতা

আমি নিজে যে ল্যাপটপটা ব্যবহার করি (Core i3, 12th gen), সেটা সিঙ্গার শোরুম থেকে কিস্তিতে কেনা। স্টুডেন্ট হওয়ায় তারা কোনো সুদ নেয়নি, অর্থাৎ ক্যালকুলেটরের ভাষায় সুদের হার ছিল ঠিক ০%। ল্যাপটপের নগদ মূল্য ছিল ৬৭,৫০০ টাকা, কিন্তু কিস্তিতে নিলে তারা আলাদা ৫০০ টাকা কিস্তি ফি (installment fee) যোগ করে, ফলে মোট গুনতে হয়েছে ৬৮,০০০ টাকা। ডাউনপেমেন্ট দিতে হতো মাত্র ১০,০০০ টাকা, তবে আমি সুবিধামতো ৪০,০০০ টাকা একসাথে দিয়েছিলাম, যাতে বাকি কিস্তির সংখ্যা কম থাকে।

এখান থেকে শেখার বিষয় হলো, “০% সুদ” শুনলেই ভাবা ঠিক না যে বাড়তি কোনো খরচ নেই। সুদ না থাকলেও প্রসেসিং বা কিস্তি ফি নামে আলাদা চার্জ থাকতে পারে। ঋণ বা কিস্তিতে কিছু কেনার আগে শুধু সুদের হার নয়, মোট কত টাকা গুনতে হচ্ছে সেটা নগদ মূল্যের সাথে মিলিয়ে দেখে নেওয়া ভালো।

কিস্তি কমানোর কয়েকটি উপায়

মেয়াদ বাড়ালে মাসিক কিস্তি কমে, কিন্তু মোট সুদ বেড়ে যায়। উল্টো দিকে, মেয়াদ কমালে কিস্তি বাড়ে কিন্তু মোট সুদ কমে। তাই নিজের মাসিক আয়ের সাথে মিলিয়ে এমন কিস্তি বেছে নিন যেটা সহজে দিতে পারবেন। সাধারণ হিসেবে সব ঋণের মোট মাসিক কিস্তি আয়ের ৩০-৪০% এর বেশি না হওয়াই নিরাপদ। বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের হোম লোন নেওয়ার আগে যা জানা দরকার লেখাটি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

EMI মানে কী?

EMI-এর পূর্ণরূপ Equated Monthly Installment, বাংলায় সমান মাসিক কিস্তি। ঋণের মূল টাকা ও সুদ মিলিয়ে প্রতি মাসে যে নির্দিষ্ট অঙ্ক পরিশোধ করতে হয়, সেটাই EMI।

এই ক্যালকুলেটরের ফলাফল কি ব্যাংকের হিসাবের সাথে হুবহু মিলবে?

প্রায় মিলবে, তবে হুবহু নাও মিলতে পারে। ব্যাংক প্রসেসিং ফি, ভ্যাট, বীমা বা আলাদা পদ্ধতিতে দিন গণনা করলে সামান্য পার্থক্য হয়। এই টুলটি ধারণা পাওয়ার জন্য, চূড়ান্ত অঙ্ক ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করে নিন।

ঋণ নেওয়ার সময় এই কিস্তির বাইরে আর কী খরচ থাকতে পারে?

প্রসেসিং ফি, ঋণ অনুমোদন ও নথি সংক্রান্ত খরচ, সম্পত্তি বন্ধকের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ও রেজিস্ট্রেশন খরচ এবং কিছু ক্ষেত্রে বীমা। ঋণ নেওয়ার আগে ব্যাংকের কাছ থেকে সব খরচের তালিকা লিখিতভাবে চেয়ে নিন।

ঋণ আগে শোধ করলে কি লাভ হয়?

রিডিউসিং পদ্ধতিতে আগে মূল টাকা শোধ করলে বাকি ঋণের ওপর সুদ কমে, তাই মোট সুদও কমে। তবে কিছু ব্যাংক আগাম পরিশোধে ফি নেয়, তাই ঋণচুক্তির শর্ত দেখে নিন।

সুদের হার শূন্য দিলে কী হবে?

তখন কোনো সুদ ধরা হবে না, মূল ঋণকে কিস্তির সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে কিস্তি দেখাবে।

দ্রষ্টব্য: এই ক্যালকুলেটর শুধু আনুমানিক হিসাব দেখায় এবং এটি কোনো আর্থিক বা ব্যাংকিং পরামর্শ নয়। প্রকৃত সুদের হার, ফি ও শর্ত ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। ঋণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬