রমজান বা বছরের যেকোনো সময় নিজের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে কি না এবং কত টাকা জাকাত দিতে হবে, তার আনুমানিক হিসাব করুন। নগদ টাকা, সোনা-রূপা ও ব্যবসার পণ্য, সবকিছু একসাথে হিসাব করা যাবে।
ক্যালকুলেটরটি কীভাবে ব্যবহার করবেন
প্রথমে নিসাবের ভিত্তি বেছে নিন, রূপার নিসাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এরপর নিজের নগদ টাকা, সোনা-রূপার পরিমাণ ও বর্তমান বাজারমূল্য, ব্যবসার পণ্যের মূল্য এবং থাকলে স্বল্পমেয়াদী ঋণ বসান। মোট সম্পদ নিসাবের টাকার সমান বা বেশি হলে এবং এক চন্দ্র বছর (হিজরি সাল) ধরে এই পরিমাণ সম্পদ আপনার কাছে থেকে থাকলে, মোট সম্পদের ২.৫% জাকাত ফরজ হয়।
জাকাতের মূল হিসাব-নিয়ম
নিসাব: রূপার নিসাব ৬১২.৩৬ গ্রাম (৫২.৫ তোলা/৫২.৫ ভরির কাছাকাছি) রূপার সমমূল্যের টাকা। সোনার নিসাব ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম) সোনার সমমূল্য।
হার: নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক হিজরি/চন্দ্র বছর ধরে থাকলে, মোট জাকাতযোগ্য সম্পদের ২.৫% জাকাত দিতে হয়।
জাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে সাধারণত ধরা হয়: নগদ টাকা, ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জমা, সোনা-রূপা (ব্যবহারিক গহনাসহ, অধিকাংশ মতে), ব্যবসার পণ্য ও শেয়ার/বিনিয়োগের বাজারমূল্য। থাকার বাড়ি, ব্যবহারের গাড়ি বা আসবাবপত্রের ওপর সাধারণত জাকাত ফরজ হয় না।
আমাদের পরিবারের বাস্তব অভিজ্ঞতা
আমার মায়ের কাছে প্রায় ৫ ভরি সোনার গহনা আছে। যেহেতু সোনার নিসাব ৭.৫ ভরি, তাই শুধু এই গহনার ওপর আলাদাভাবে জাকাত ফরজ হয় না। তবে এটা মনে রাখা জরুরি, সোনা একা নিসাবে না পৌঁছালেও বাড়িতে নগদ টাকা বা ব্যাংকে জমা থাকলে, সোনার মূল্য আর নগদ টাকা একসাথে যোগ করে মোট সম্পদ নিসাব ছুঁয়েছে কি না দেখতে হয়। অনেকেই এই ভুলটা করেন, শুধু সোনা বা শুধু নগদ আলাদাভাবে দেখে ভাবেন জাকাত ফরজ না, অথচ দুটো মিলিয়ে হিসাব করলে ফরজ হয়ে যায়।
আমার বাবা প্রতি বছর নিয়মিত জাকাত দেন, ব্যাংকে জমানো টাকার ওপর নিসাব পার হওয়ার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ২.৫% হারে হিসাব করে। এই ক্যালকুলেটরে “নগদ ও জমা টাকা” ঘরে নিজের জমার পরিমাণ বসিয়ে একইভাবে যে কেউ নিজের হিসাব করে দেখতে পারেন।
একটি উদাহরণ
ধরুন: কারও ব্যাংকে জমা ৫,০০,০০০ টাকা, সোনা ৩ ভরি (ভরিপ্রতি ২,২০,০০০ টাকা ধরে = ৬,৬০,০০০ টাকা), কোনো ঋণ নেই।
মোট জাকাতযোগ্য সম্পদ: ৫,০০,০০০ + ৬,৬০,০০০ = ১১,৬০,০০০ টাকা। রূপার নিসাব (ধরা যাক প্রায় ৯৮,০০০-১,১০,০০০ টাকার কাছাকাছি, রূপার বর্তমান দামের ওপর নির্ভর করে) থেকে অনেক বেশি, তাই জাকাত ফরজ।
প্রদেয় জাকাত: ১১,৬০,০০০ × ২.৫% = ২৯,০০০ টাকা।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
সোনা আর নগদ টাকা কি আলাদা আলাদাভাবে নিসাব হিসাব করতে হয়?
না, বেশিরভাগ আলেমের মতে সব ধরনের জাকাতযোগ্য সম্পদ (নগদ, সোনা-রূপা, ব্যবসার পণ্য) একসাথে যোগ করে মোট সম্পদ নিসাবের সমান বা বেশি কি না দেখতে হয়। আলাদা আলাদাভাবে দেখলে অনেক সময় ভুল হিসাব হয়।
এক বছর ধরে সম্পদ থাকা মানে কী?
নিসাব পরিমাণ সম্পদ একটানা পূর্ণ একটি হিজরি (চন্দ্র) বছর আপনার মালিকানায় থাকলে জাকাত ফরজ হয়। বছরের মাঝে সম্পদের পরিমাণ কমে-বাড়লেও, বছর শেষে হিসাবের দিনে যা আছে তার ওপর হিসাব করা হয়, এ বিষয়ে বিস্তারিত নিয়মের জন্য স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ব্যবহারের গহনার ওপর কি জাকাত দিতে হয়?
অধিকাংশ আলেমের মতে ব্যবহারের সোনা-রূপার গহনার ওপরও জাকাত ফরজ হয়, যদিও এ নিয়ে সামান্য মতভেদ আছে। সতর্কতা হিসেবে ব্যবহারিক গহনার ওপরও জাকাত হিসাব করাই নিরাপদ মত।
এই ক্যালকুলেটর কি পুরোপুরি নির্ভুল?
না, এটা সাধারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে একটা আনুমানিক হিসাব মাত্র। ব্যক্তি বিশেষে সম্পদের ধরন জটিল হলে (ঋণ, ব্যবসার হিসাব, যৌথ সম্পত্তি) সঠিক ফতোয়ার জন্য স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে পরামর্শ করুন।
দ্রষ্টব্য: এই ক্যালকুলেটর শুধু একটা সাধারণ আনুমানিক হিসাব দেখায়, এটি কোনো ধর্মীয় ফতোয়া বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সোনা-রূপার দাম প্রতিদিন বদলায়, হিসাব করার সময় হালনাগাদ দাম বসান। সঠিক জাকাত নির্ধারণের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নিন। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২ অক্টোবর ২০২৬
